ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

পুঁজি হারনোর আতঙ্কে লিবরা ইনউফিশনসের বিনিয়োগকারীরা

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-১৪ ১৮:৪৭:৩৩ || আপডেট: ২০১৯-০৯-১৫ ২১:৫০:০৪

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের এ ক্যাটাগরির কোম্পানি লিবরা ইনফিউশনস লিমিটেডের আর্থিক সংকট নিয়ে কোম্পানি ও  আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে যে আন্তদ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে; তাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারানোর ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

এর আগে কোম্পানির পক্ষ থেকে উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। ব্যাংকটি কোম্পানির ঋণপত্র বা এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) বন্ধ করে দেয়ায় কাঁচামালের অভাবে স্যালাইন উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়, যা ডায়রিয়া ও ডেঙ্গুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তবে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে কোম্পানির এই বক্তব্য  প্রকৃত সত্য আড়াল করেছে বলে জানানো হয়।

কোম্পানি ও ঋণদাতা ব্যাংকের মধ্যে ঋণ সংক্রান্ত বিষয় আইন অনুযায়ী সামাধান হতে পারে। তবে উভয় পক্ষের আন্তদ্বন্দ্বের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে, কোম্পানিটির মোট রিজার্ভ রয়েছে ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। স্বল্পমেয়াদে ঋণ রয়েছে ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। আর দীর্ঘমেয়াদে ঋণ রয়েছে ৬ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির বর্তমান পিই রেশিও ১৮৫ দশমিক ৮১ পয়েন্ট, ডায়লোটেড ইপিএস অনুয়ায়ী পিই রেশিও ২২৩ দশমিক ২৪ পয়েন্ট।

৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ সুপারিশ করে। এসময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ৫ টাকা ১ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৯৩ টাকা। আর ৯ মাসে (জুলাই ’১৮-মার্চ ’১৯) কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৮ টাকা ৭ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১২ টাকা ৬৫ পয়সা। আর ৩ মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১১ টাকা ৩৮ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১২ টাকা ১৩ পয়সা। এসময়ে কোম্পানির এনএভি হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ টাকা ৮২ পয়সা।

‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি ১৯৯৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকের কাছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে দশমিক ৯৪ শতাংশ শেয়ার, আর ৬৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে।