ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ আগস্ট ২০১৯

এক অংকে সুদহার বেঁধে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-০৫ ০৯:৫২:৪৫ || আপডেট: ২০১৯-০৮-০৫ ০৯:৫২:৪৫

ব্যাংকঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনার কথা হচ্ছে এক বছর ধরে। অর্থমন্ত্রীর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের নীতিনির্ধারকরাও একই কথা বলছেন। যদিও এর বাস্তবায়ন অধরাই থাকছে। এ অবস্থায় এক অংকের সুদহার বেঁধে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকে দেশের ৪০টি বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রে ৬ শতাংশ এবং ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদহার বাস্তবায়নে খুব শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এ নির্দেশনা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। একই সঙ্গে যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ‘ছিনিমিনি খেলেছে’ তারাও ছাড় পাবে না।

এ বৈঠকে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান ও আহমেদ জামাল, ব্যাংকিং রিফর্ম অ্যাডভাইজার এসকে সুর চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

দেশের ৪০টি বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিদেরই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে কয়েকটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পরিবর্তে পরিচালকরা বৈঠকে অংশ নেন। প্রায় সবক’টি ব্যাংকের এমডিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাকে একটু সময় দিন। আমরা কাউকে ছাড় দেব না। যারা খারাপ উদ্দেশ্যে টাকা নিয়েছে, তারা কেউ পার পাবে না। তবে যারা ভালো উদ্দেশ্যে টাকা নিয়েছে, ব্যবসা করতে গিয়ে লস করেছে, সুদ বেশি হওয়ার কারণে টাকা ফেরত দিতে পারেনি, তাদের বিষয়টা ভিন্ন। আমি কাউকে অপমান করতে আসিনি; কারো ক্ষতি করতে আসিনি। কিন্তু যারা মানুষের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, টাকা ফেরত না দেয়ার জন্য নিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ব্যাংকারদের সঙ্গে বসেছিলাম, এ বিষয়টি জানতে আমরা যে বাজেট ঘোষণা করেছি, তারা সেটার সঙ্গে সংগতি রেখে চলতে পারবে কিনা? তাদের সঙ্গে আমাদের ব্যাংকিং খাত নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। ব্যাংকাররা আমাকে আশ্বস্ত করেছে, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যাংকিং খাত ঘুরে দাঁড়াবে। বিশেষ করে তারা বলেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমবে। পাশাপাশি নয়ছয় বাস্তবায়নের বিষয়টিও আরো এগোবে।

ব্যাংকিং খাতের সেবার মান বাড়বে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো তাদের কস্ট অব অপারেশন কমিয়ে আনবে। এসব বিষয়ে ব্যাংকাররা আমাদের কথা দিয়েছেন এবং আপনারা সেপ্টেম্বরের মধ্যে এর ফলাফল দেখতে পাবেন। দেশের সরকারি-বেসরকারি ১৬টি ব্যাংকঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে এনেছেন বলে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন।

ব্যাংক খাত নিয়ে ‘ঢালাওভাবে’ কিছু না লিখতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা পার্টিকুলার ব্যাংক নিয়ে কথা বলতে পারেন। কিন্তু পুরো খাত নিয়ে যদি লেখেন, তাহলে সেটা অর্থনীতির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বৈঠকে অংশ নেয়া ব্যাংক এমডিরা বলেন, ঋণের সুদহার কমানোর বিষয়টি চাহিদা ও জোগানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কম সুদে আমানত পেলে ঋণের সুদহার এক ডিজিটে নামিয়ে আনার বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু এখনো ৬ শতাংশ সুদে সরকারি আমানত পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যক্তি ও বেসরকারি বড় করপোরেটের আমানতের সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী। এ অবস্থায় জোগান ঠিক না করে ঋণের সুদহার কমানো কঠিন।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির রিটেইনড আর্নিংসের ওপর কর আরোপ করা হয়েছে। বিষয়টি ব্যাংকের ব্যাসেল-৩ বাস্তবায়নের অন্তরায় দাবি করে একটি ব্যাংকের এমডি বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। কিন্তু অর্থমন্ত্রী ওই এমডিকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, আপনারা বিনিয়োগকারীদের নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে স্টক ধরিয়ে দেবেন, তা হবে না। এজন্যই রিটেইনড আর্নিংসের ওপর কর আরোপ করা হয়েছে।