ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯

এক মাসে বন্ধ প্রায় ৩ লাখ বিও হিসাব

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-০৫ ০৯:৩৬:৪৭ || আপডেট: ২০১৯-০৮-২০ ০৮:৫৫:২৪

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন ফি প্রদান না করায় ২ লাখ ৮১ হাজার ১৫৮টি বেনিফিশারি ওনার্স (বিও) হিসাব বন্ধ করেছে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)। বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব বিও হিসাবের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আর লেনদেন করতে পারবেন না হিসাবধারীরা।

প্রতি বছরই নবায়ন ফি প্রদান না করায় বহুসংখ্যক বিও হিসাব বন্ধ করে দেয় সিডিবিএল। তবে কয়েক বছরের মধ্যে এ বছরই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বিও হিসাব বন্ধ করেছে সিডিবিএল।

সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন শেয়ারবাজারে সক্রিয় বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ ৯ হাজার ৮৫০। ৩০ জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৯২। এক মাসের ব্যবধানে বন্ধ হয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ১৫৮টি বিও হিসাব।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের ৩০ জুন শেয়ারবাজারে সক্রিয় বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ২৭ লাখ ৬৪ হাজার ৩৮৭। ৩১ জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ২০ হাজার ৪০৯। ৩০ জুন থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বন্ধ হয়েছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৭৮ বিও হিসাব। চলতি বছর বন্ধ হওয়া বিও হিসাবের সংখ্যা গত বছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। ২০১৭ সালের ৩০ জুনে সক্রিয় বিও হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৩। ৩১ জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪০। বছরটিতে এক মাসের ব্যবধানে বন্ধ হয়েছিল ২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯২টি বিও হিসাব।

গত মাসে ভুয়া বিও হিসাব বন্ধে একটি নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যদিও পরবর্তী সময়ে এ ধরনের হিসাব বন্ধের সময়সীমা বাড়িয়েছে বিএসইসি। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিএসইসির পক্ষ থেকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। যেহেতু এখানে বিপুলসংখ্যক বিও হিসাব যাচাইয়ের ব্যাপার রয়েছে, সে কারণেই মূলত সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

গত ৩০ জুন চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়। এর পর থেকে ১৫ কার্যদিবসে ২৭ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছে বিনিয়োগকারীরা। এ সময়ের মধ্যে ডিএসইএক্স সূচকটি প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ বা ৪৫৬ পয়েন্ট কমে যায়। অন্যদিকে ডিএসইর বাজার মূলধনেও দেখা যায় বড় পতন। এ সময়ে ডিএসইর বাজার মূলধন ৪ লাখ কোটি টাকা থেকে কমে ৩ লাখ ৭৩ হাজার কোটিতে দাঁড়ায়। যদিও জুলাইয়ের শেষ কয়েকদিনে শেয়ারবাজারে দেখা যায় চাঙ্গা ভাব। শেয়ারদরে ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়ায় জুলাইয়ের শেষ কয়দিনে ডিএসইর বাজার মূলধনও বেড়েছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৩১ জুলাই ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। মাসের মাঝামাঝিতে ডিএসইএক্স ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে এলেও পরবর্তী সময়ে তা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গতকাল লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৭২ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট। যা ২২ জুলাই ৪ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে নেমে এসেছিল।

গতকাল পর্যন্ত শেয়ারবাজারে সক্রিয় বিও হিসাবের সংখ্যা ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৩। যার মধ্যে সাধারণ বিও হিসাব ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৮১৪টি এবং কোম্পানিভিত্তিক বিও হিসাব ১২ হাজার ৮৩৯টি। সাধারণ বিও হিসাবধারীদের মধ্যে ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ৭১২টি হিসাবধারী পুরুষ ও ৬ লাখ ৭১ হাজার ১০২টি হিসাবধারী নারী। ব্যক্তিগত বিও হিসাব সংখ্যা ১৬ লাখ ৩ হাজার ৬৩৭ ও যৌথ হিসাব সংখ্যা ৯ লাখ ১২ হাজার ১৭৭। রেসিডেন্ট বিও হিসাব সংখ্যা ২৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৫৩ ও নন-রেসিডেন্ট বিও হিসাব সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৬১।