ঢাকা, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

পেয়ারা গাছের ফুল আসা নিয়ন্ত্রণ করে কিভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায়?

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৬ ১০:০২:০৫ || আপডেট: ২০১৯-০৭-১৬ ১০:০২:০৫

এগ্রি বিজনেস ডেস্ক:  পেয়ারা গাছে আবহাওয়া, সূর্যালোক, বর্ষাকালের স্থায়ীত্ব, গাছের শারীরবৃত্তীয় অবস্থা ইত্যাদি বিষয়ের উপর নির্ভর করে তিনবার ফুল আসতে পারে। সারাবছর ফল নিলে ও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকলে ফলের আকার ও গুণমান হ্রাস পায়। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ফলন পেতে হলে নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলি অবলম্বন করতে হবে –

(ক)গাছের ডাল বেঁকিয়ে – খাড়া শাখাগুলিতে ফুল-ফল কম আসে। তাই বর্ষার আগে বৈশাখ-জৈষ্ঠ মাস নাগাদ খাড়া/উল্লম্ব ডালগুলি বেঁকিয়ে মাটিতে সমান্তরালভাবে রাখলে ফল বেশী সংখ্যায় আসে। গ্রাম বাংলায় এটি ম্যাসেজ করা নামে পরিচিত।

(খ) সেচের জল নিয়ন্ত্রণ করে – ফাল্গুন থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত বাগানে জল না দিলে সমস্ত পাতা ঝড়ে যায়। গাছ বিশ্রাম দশায় চলে যায়। জৈষ্ঠ্য মাস নাগাদ সার দিয়ে জলসেচ দিলে নতুন পাতা ও ফুল আসে।

(গ) গাছের শিকড় উন্মুক্ত করে – ফাল্গুন থেকে বৈশাখ মাসে পেয়ারা গাছের শিকড়ের চারপাশে ৪৫-৬০ সেন্টিমিটার ব্যাসার্ধের মাটি খুঁড়ে উন্মুক্ত করে দিলে গাছের স্বাভাবিক পুষ্টি ব্যাহত হয়। এর পরে জৈষ্ঠ্য মাস নাগাদ সার দিয়ে জলসেচ দিলে নতুন পাতা ও ফুল আসে।

পেয়ারা গাছের রোগ ও প্রতিকার –

  • ঢলে পড়া বা শুকিয়ে যাওয়া – ছত্রাকের আক্রমণে গাছ ডগার দিক থেকে শুকিয়ে পড়ে, ঝিমিয়ে পড়ে, অনেক সময় মারা যায়। প্রতিকারে পরিচ্ছন্ন চাষের সাথে পটাশিয়াম ও জৈব সারের ব্যবস্থা করতে হবে। আক্রান্ত গাছে জিনেব ৬৮% + হেক্সাকোনাজোল ৪% ডব্লু পি ২ গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।
  • অ্যানথ্রাকনোজ – আক্রান্ত গাছের বাড়ন্ত অংশ শুকিয়ে কালো হয়ে যায় আস্তে আস্তে গোটা গাছ ও ফল কালো হয়ে যায়। প্রতিকারে থায়োফ্যানেট মিথাইল৭০% ডব্লু পি ১ গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।
  • ফলের ক্যাঙ্কার রোগ – ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত এই রোগে ফলের গাছে কালো দাগ হয়, পরে দাগ গভীর হয় ও ফল নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিকার পরিচ্ছন্ন চাষ ও রোগাক্রান্ত ফল পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

১. কান্ডছিদ্রকারী পোকা – পুরানো গাছের পোকার শুককীট কান্ডের ছাল খায়, নরম অংশও খেয়ে ফেলে। গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে। ফুল কম আসে। বেশী আক্রমণে গাছ মরে যেতে পারে।
প্রতিকার – গাছ থেকে ২৫-৩০ সেমি উপরে আলকাতরা ও ক্লোরপাইরিফস একসাথে মিশিয়ে গাছের গায়ে লেপে দিতে হবে। গাছের গায়ে গর্ত গুলো পরিষ্কার করে তাতে ১০ শতাংশ ট্রায়জোফস ৪০% ই.সি, কার্বোসালফান ২৫% ই সি প্রয়োগ করতে হবে।

২. দয়ে পোকা – এই পোকাগুলি কান্ডের নরম অংশে, কচি পাতায় ও ফুলে দলবদ্ধভাবে থাকে ও রস চুসে খায়। আক্রান্ত গাছের রং ফ্যাকাসে হয়ে যায়। ফুল ও ফলের সংখ্যা কমে যায়।
প্রতিকার – পরষ্কার পরিচ্ছন্ন চাষ, মাটি থেকে ২ ফুট উঁচুতে ১ ফুট চওড়া পলিথিন শক্ত করে দড়ি দিয়ে কান্ডের সাথে বেঁধে দিতে হবে।প্রয়োজনে থায়োমিথক্সাম ২৫% ডব্লু জি ০.৫ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।