ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯

গুড়া দুধের আমদানী শুল্ক বৃদ্ধির দাবি, সড়কে দুধ ঢেলে প্রতিবাদ

প্রকাশ: ২০১৯-০৬-২২ ১৮:০৫:৪০ || আপডেট: ২০১৯-০৬-২২ ১৮:০৬:৪৯

 নিজস্ব প্রতিবেদক:  ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে আমদানি করা গুঁড়া দুধের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন।

শনিবার (২২ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনের পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় দুধ ঢেলে প্রতিবাদ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ ডেইরী ফার্মার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজটে নিম্নমানের ভর্তুকি প্রাপ্ত গুড়া দুধের উপর এন্টি ডাম্পিং ট্যাক্স আরোপ ও আমদানী শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছিল বাংলাদেশ ডেইরী ফার্মার্স এসোসিয়েশন।

তিনি আরো বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কনসেশনারি কাস্টমস ডিউটি ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে মাত্র ১০ শতাংশ করা হয়েছে। যা আসলে দুগ্ধ খামারিদের কোন কাজেই আসবেনা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডেইরী ফার্মার্স এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ সভাপতি রাকিবুর রহমান টুটুল। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাধারন সম্পাদক শাহ এমরান।

এসময় বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মাস এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

একই সঙ্গে বিগত ১৫ বছরে মুদ্রাস্ফীতির সাথে সমন্বয় করে খামারিদের তরল দুধের ন্যায্য দাম সরকার থেকে নিশ্চিত করা এবং সঠিক বাজারজাত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাসহ ১১ দাবী জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রস্তাবিত বাজেটকে ভিত্তি করে এবং আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স এসোসিয়েশন আরো দাবি করে, দুগ্ধ প্রসেসিং কোম্পানিদের সাথে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দামে তরল দুধের দাম সমন্বয় সাধন, এলাকাভিত্তিক খামারিদের দুধ সংরক্ষন ব্যবস্থাপনা তৈরী করা, ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকার থেকে দ্বায়িত্ব নিয়ে সচেতনতামূলক টিভিসি প্রোগ্রাম করা, গো-খাদ্য আমদানীতে সকল শুল্ক প্রত্যাহার করা, আধুনিক খামার ভিত্তিক সকল বৈদেশিক যন্ত্রপাতি আমদানীতে সকল শুল্ক প্রত্যাহার করা, বানিজ্যিক নয় বরং কৃষির আওতায় দুগ্ধ খামারের বিদ্যুৎ ও পানির বিল আনা, পোল্ট্রি ও মৎস শিল্পের মত দুগ্ধ খামারিদের আগামী ২০ বছরের জন্য আয়কর মুক্ত বা ট্যাক্স হলিডে দেয়া এবং স্বল্প সুদে খামারিদেও ঋণ বিতরণ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দুগ্ধ খামার ব্যবসা বাংলাদেশে কৃষি ব্যবসার অনেকগুলো ব্যবসার মধ্যে অন্যতম। দেশে মোট জিডিপি এর ১৯ শতাংশ আসে কৃষি থেকে। বিগত ৭ বছরে দেশে দুগ্ধ খামারের সংখ্যা (রেজিষ্টার্ড এবং আনরেজিষ্টার্ড) বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১২ লক্ষ, দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮ সনে হয়েছে ৯৪ লক্ষ মেট্রিক টন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে দুগ্ধ খামার ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত প্রায় ৯৪ লাখ মানুষ। লাখ লাখ বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পর্যায়ক্রমে গুড়া দুধের আমদানী শুল্ক বাড়ানো হোক কারন মোট চাহিদার ৭০% দুধ দেশই এখন উৎপাদন করে। বিগত ৭ বছরে মানুষের খাদ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাবার কারনে গরুর দুধের প্রতি চাহিদা বেড়েছে বহুগুনে। যার ফলশ্রুতিতে দুধের উৎপাদন বিগত ৭ বছরে বেড়েছে ৩ গুন এবং দেশে দুধের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাং দুধ আমরা নিজেরাই উৎপাদন করছি। এমতাবস্থায় আমদানী শুল্ক পর্যায়ক্রমে কিছুটা বাড়িয়ে দেশীয় দুগ্ধ শিল্পকে প্রনোদনা ও সরকারী সহযোগিতা বৃদ্ধি করাই একমাত্র সহায়ক।

দুগ্ধ শিল্পের ক্ষেত্রে সরকারী এন্টি ডাম্পিং ট্যাক্স নীতিমালা মেনে চলা হচ্ছেনা বলেও অভিযোগ করেন খামারিদের সংগঠনটি। এছাড়াও নতুন বড় বিনিয়োগে বাধার ফলে দেশীয় বাজার ধ্বংস হয়ে গেলে উচ্চমূল্যেই দুধ কিনতে হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন বক্তারা।