ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯

‘মিউচ্যুয়াল ফান্ড হতে পারে বিনিয়োগের সেরা নিয়ামক’

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৪ ১৮:৫১:২৮ || আপডেট: ২০১৯-০২-১৫ ২২:৩৭:৩৪

আমরা জানি বিনিয়োগ সব সময় ঝূঁকিপূর্ণ। আর বিনিয়োগ সম্পর্কে যদি সঠিক ধারণা না থাকে, তাহলে সেটা আরও বেশি ঝুকিপূর্ণ। আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের বদ্ধমূল ধারণা, পুঁজিবাজার একটি সাধারণ জায়গা। এখানে বিনিয়োগ করতে বেশি জানার প্রয়োজন হয় না। ফলশ্রুতিতে তারা অন্ধভাবে অস্বচ্ছ ধারণার ওপর বিনিয়োগ করে থাকে। এতে হয় তারা লাভবান হয়; নতুবা লোকসানের সম্মুখীন হয়। অথচ তারা চাইলেই নিরাপদে এবং সহজে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারেন। আর সেই সহজ উপকরণটি হচ্ছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড। পুঁজিবাজার সম্পর্কে কোন রকম জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও এই মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে ১ জন সাধারণ বিনিয়োগকারী তার বিনিয়োগ ঝূঁকি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারেন।

শুধু তাই নয়, অনেকের ক্ষুদ্র বিনিয়োগ ১ সাথে হওয়ার মাধ্যমে যে বিনিয়োগ হবে তা শেয়ার মার্কেটকে অনেক বেশি শক্তিশালী করবে। অবশ্য সেই জন্য মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো পরিচালনা করার জন্য দক্ষ অ্যাসেট ম্যানেজার আবশ্যক। বর্তমানে যে কয়টি অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানি বাজারে কাজ করছে; তারা সবাই দক্ষ অ্যাসেট ম্যানেজারদের মাধ্যমেই ফান্ড পরিচালনা করছেন। অতএব সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বলবো মিউচ্যুয়াল ফান্ডে দেখে শুনে বিনিয়োগ করেন। অহেতুক বিনিয়োগ ঝুঁকি থেকে বেরিয়ে আসুন। এতে করে অন্তত আপনি শেয়ার মার্কেটে সর্বশান্ত হওয়া থেকে বাঁচবেন।

 

মিউচ্যুয়াল ফান্ড কি?

মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে একটা সহজ ধারণা দেওয়া যেতে পারে। ধরুন, আপনি পুঁজিবাজারে টাকা খাটাতে চান। অথচ কোন শেয়ারে, কখন, কত টাকা খাটাবেন, তা নিয়ে আপনার কোন ধারণাই নেই। এ ক্ষেত্রে সোজা উপায় হলো, মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে টাকা তুলে সেই টাকা দিয়ে যখন এক সঙ্গে প্রচুর শেয়ার কেনা হয়, তাকে বলে মিউচুয়াল ফান্ড। সুতরাং মিউচুয়াল ফান্ড কোন কোম্পানির শেয়ার নয়। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কেম্পানি তার খরচ বাদ দিয়ে উদ্যোক্তা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে লভ্যাংশ হিসেবে ভাগ করে দেয়।

ধরা যাক, এবিসি নামের একটি অ্যসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি মিউচুয়াল ফান্ড স্কিম চালু করল। এর আওতায় ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলো। এবার সেই টাকা খাটাতে শুরু করল শেয়ার মার্কেটে। যদি ইক্যুইটি স্কিমে বিনিয়োগ করা হয়, তা হলে বিনিয়োগ হবে মূলত শেয়ারে। যদি ডেট স্কিমে বিনিয়োগ করা হয়, তবে বিনিয়োগ হবে ঋণপত্রে। ধরুন, শুরুতে ১জন বিনিয়োগকারীকে ইউনেট প্রতি ১০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলো সংশ্লিষ্ট মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পানিকে অর্থ্যাৎ একটা ইউনিট কিনতে হবে ১০ টাকা দিয়ে। ১ হাজার ইউনিট কিনতে খরচ হবে ১০ হাজার টাকা। ১ বছর পর দেখা গেল, ওই ইউনিটের বাজারদর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা। এবার সেই ১ হাজার ইউনিট বিক্রি করলে পাওয়া যাবে ১২ হাজার টাকা। বছর শেষে লাভ হবে ২ হাজার টাকা। আবার এই ইউনিটগুলো যিনি কিনবেন, তাঁকে প্রতি ইউনিটে ১২ টাকা খরচ করতে হবে।

আসলে মিউচ্যুয়াল ফান্ড হলো পেশাদার ফান্ড ম্যানেজার দ্বারা নির্মিত ও নিয়ন্ত্রিত এমন একটি ব্যবস্থা, যা ছোট ছোট বিনিয়োগকারীদের থেকে টাকা সংগ্রহ করার মাধ্যমে তার দ্বারা পোর্টফোলিও বানিয়ে, সেটি বিভিন্ন খাতে ভাগ করে বিনিয়োগ করে থাকে। যেহেতু অর্থনীতি একটি অত্যন্ত সুক্ষ ও সংবেদনশীল বিয়য়। তাই পেশাদার ফান্ড ম্যানেজার ও তাদের গবেষকরা এই বিনিয়োগের আগে অতীত ও বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার পরিসংখ্যান বিচারের নিরিখে এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির মাধ্যমে বিনিয়োগের কেীশল নির্ণয় করে থাকেন। যেহেতু বহু বিনিয়োগকারীর টাকা একত্র করে ও ভবিষ্যৎ মুদ্রাস্ফীতির সম্যক গণনার পর বিনিয়োগ করা হয়। যার ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের একক ঝূঁকির পরিমান অনেকাংশেই হ্রাস পায়, যা বিনিয়োগ রাশির শ্রীবৃদ্ধির পথ সুগম করে তোলে।

আরো বলা যায়, মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে একটি ট্রাস্ট বা একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হিসেবে কাজ করে। এই অর্থ তারা বিভিন্ন ধরণের কিছু নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণের জন্য বিনিয়োগ করে।

অন্য ভাবে বলা যায়, মিউচ্যুয়াল ফান্ড একটা ট্রাস্ট হিসেবে কাজ করে; যেটা বিনিয়োগকারীদের সঞ্চয়ের সমন্বয় সাধন করে সেই অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জনের জন্য। তারপর মুনাফাকৃত অর্থ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া। এর বদৌলতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি একটা নিদিষ্ট অংকের টাকা তাদের সার্ভিস চার্জ হিসেবে ধার্য করে।

প্রত্যেক মিউচ্যুয়াল ফান্ড সাধারণত একটা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে। বিনিয়োগকারীগণ একই উদ্দেশ্য সাধনে এই বিশেষ প্রকল্পে বিনিয়োগ করে থাকেন। প্রত্যেকটা প্রকল্প ১ জন ফান্ড ম্যানেজার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়; যিনি আর্থিক বিশ্লেষকের সাহয্যে বাজার কর্মক্ষমতার ওপর নজর রাখেন এবং বিনিয়োগ করেন।

 

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রকাশ ভেদ:

 

 

মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড:

এ ফান্ডের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে, প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের মাধ্যমে ইস্যু করা হয়। মেয়াদ শেষে যা অবশিষ্ট থাকবে তা বিতরণ করে এই ফান্ড বিলুপ্ত হয়। তবে এই ফান্ডে যখন ইচ্ছা টাকা তোলা যাবে না। তালিকাভুক্ত মেয়াদি ফান্ড থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে হলে সেকেন্ডারি মার্কেটে ইউনিটের বাজার মূল্যই ভরসা। বাজার মূল্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীরা ইউনিটের লেনদেন করতে পারেন।

 

মেয়াদি বা ক্লোজ-এন্ড ফান্ডের কিছু বৈশিষ্ট্য:

১। এই ফান্ডে তহবিল খাটে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য। বাংলাদেশের এ ধরণের ফান্ডের মেয়াদ সাধারণত ১০-২০ বছরের হয়।

২। মেয়াদ পূর্ণ হলে ফান্ডের অবসান ঘটানো হয়। তবে সেটা নির্ভর করে অধিকাংশ ইউনিটহোল্ডাদের সিদ্ধান্তের ওপর। এর মধ্যে হিসাব বছর শেষে ট্রাস্টি ইউনিটহোল্ডাদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

৩। সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করে।

৪। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে ইউনিট লেনদেন করা যায়। এতে অনেক সময় এনএভি থেকে অনেক কম মূল্যে লেনদেন হয় মার্কেটে। তাতে লোকসান হয় বিনিয়োগকারীদের।

৫। মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড মেয়াদ শেষে ওপেন এন্ড ফান্ডে রুপান্তরিত হতে পারে। তবে সেটা নির্ভর করে অধিকাংশ ইউনিটহোল্ডাদের সিদ্ধান্তের ওপর।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সূত্রে মতে বর্তমানে বাংলাদেশে মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড আছে ৩৪ টি।

নিচে তার তালিকা দেওয়া হলো:

(নিচে ক্লিক করুন)

মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড

বে-মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড:

বে-মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড স্বাধীনভাবে চাহিদার ওপর নতুন ইউনিট ইস্যু করতে পারে। এই ধরণের মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন করা হয় নেট সম্পদ মূল্যের ওপর । এটা কখনও বিলুপ্ত হয় না।

বে-মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বৈশিষ্ট্য:

১। এই ফান্ডে তহবিলের মেয়াদ নির্দিষ্ট থাকে না। ইউনিট সংখ্যারও কোন নির্দিষ্টতা থাকে না।

২। বে-মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড কোন স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয় না।

৩। বে-মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লিক্যুইডেশন কম হয়ে থাকে। কার্যদিবস শেষে প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হিসাব করা হয়। তবে বাংলাদেশে সপ্তাহে একবার প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হিসাব করা হয়।

৪। এই ধরণের ফান্ডে ক্যাশ রিজার্ভের প্রয়োজন রয়েছে।

৫। বে-মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড এনএভি অনুযায়ী লেনদেন হয়।

আর বে মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড আছে ৪৫টি। নিচে তার তালিকা দেওয়া হলো-

(নিচে ক্লিক করুন)

বে-মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড

 

১। ইক্যুইটি ফান্ড:

এই ফান্ডের আওতায় টাকা মূলত খাটানো হয় ইক্যুইটি শেয়ারে। এ ধরনের শেয়ারে টাকা খাটানো খুব ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ শেয়ারের দাম যদি হঠাৎ পড়ে যায়, তাহলে লোকসান হবে। যারা ঝুঁকি নিতে ভালোবাসেন, তারা এই স্কিমে টাকা ঢালতে পারেন।

২। ডেট ফান্ড:

এক্ষেত্রে টাকা ঢালতে হয় মূলত বিভিন্ন ধরনের ঋণপত্রে। শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি, কর্পোরেট ঋণপত্রও রয়েছে। যারা ঝূঁকি নিতে পছন্দ করেন না, তাদের ক্ষেত্রে সুনিশ্চিত রোজগারের উপায় হলো ডেট ফান্ডে বিনিয়োগ করা। টাকা ফেরতের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকা যায়।

মনজুরুল আলম- প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা, এনসিসি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস

৩। ব্যালেন্স ফান্ড:

এক্ষেত্রে টাকা ইক্যুইটি ও ডেট ফান্ড, উভয় ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা হয়। উদ্দেশ্য হলো, নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারীকে মোটা অংকে ফেরত দেওয়া। বাজারের গতি প্রকৃতি অনুযায়ী বিনিয়োগের পরিকল্পনা স্থির করে মিউচুয়াল ফান্ড কর্তৃপক্ষ।

৪। মানি মার্কেট মিউচুয়াল ফান্ড:

এ ধরনের ফান্ডকে লিক্যুইড ফান্ডও বলে। এ ক্ষেত্রে সিংহভাগ টাকা স্বল্পমেয়াদি জিনিস যেমন সার্টিফিকেট এফ ডিপোজিট, ট্রেজারি, কমার্সিয়াল পেপারে বিনিয়োগ করা হয়। স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগ এ ধরণের বৈশিষ্ট্য।

৫। গিল্ট ফান্ডস:

সবচেয়ে নিরাপদ হল এ ধরনের ফান্ড। সরকারি সিকিউরিটিজে টাকা ঢালা হয়। ফলে আপনার টাকা মার যাওয়ার ভয় নেই। কষ্টার্জিত টাকা এখানে বিনিয়োগ করে নিশ্চিন্তে থাকা যায়।

৬। ইনডেক্স ফান্ড:

মার্কেট ইনডেক্স এর ওপর ভিত্তি করে যে মিউচুয়াল ফান্ড গঠিত হয় তাকে ইনডেক্স ফান্ড বলে।

 

 

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সাথে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান সমুহ:

১। উদ্যোক্তা:

উদ্যোক্তা অর্থ কোন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত ফান্ড; যা মিলিতভাবে বা এককভাবে মিউচ্যুয়াল ফান্ড গঠন করে।

২। ট্রাস্টি:

ট্রাস্টি অর্থ এমন কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা কোন কোম্পানি যা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সম্পত্তি ট্রাস্টির ব্যবস্থাধীনে রাখার উদ্দেশ্যে কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর অধীনে গঠিত। এই বিধির ২০এ অধীনে কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত, বর্তমানে ট্রাস্ট্রি হিসেবে যারা কাজ করছে।

তাদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো-

(নিচে ক্লিক করুন)

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি

৩। সম্পদ ব্যবস্থাপক:

সম্পদ ব্যবস্থাপক অর্থ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপনা ও উহা পরিচালনার উদ্দেশ্যে এই বিধির অধীনে কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা যা ১৯৯৪ সনের অধীনে গঠিত, বর্তমানে সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে যারা কাজ করছে তাদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

(নিচে ক্লিক করুন)

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপক

৪। হেফাজতকারী:

হেফাজতকারী অর্থ এমন কোন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ডিপোজিটরি বা কোন কোম্পানি যা সিকিউরিটিজ হেফাজত রাখার কার্যে নিয়োজিত থাকার উদ্দেশ্যে কোম্পানি আইন ১৯৯৪ সনের অধীনে গঠিত। এই বিধির ৩৭ এর অধীনে কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত। বর্তমানে হেফাজতকারী হিসেবে যারা কাজ করছে তাদের তালিকা নিম্নরুপ।

(নিচে ক্লিক করুন)

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের হেফাজতকারী

 

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ নিয়ম:

মিউচ্যুয়াল ফান্ড ম্যানেজার বিনিয়োগ করবে সেই সব সিকিউরিটিজ, আমানত এবং বিনিয়োগে; যা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন / অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক / অথবা বিমা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বা অন্য কোন যোগ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অধীনে সংগৃহীত সমস্ত টাকা শুধুমাত্র নগদ/ হস্তান্তরযোগ্য শেয়ার পুঁজিবাজারে বা প্রি-আইপিও শেয়ার, প্রেফারেন্স শেয়ার, ডিবেঞ্চার বা সুরক্ষিত ঋণের মধ্যে বিনিয়োগ করা যাবে।

বিনিয়োগ এক্সপোজার:

১। মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ৬০ শতাংশ; কমপক্ষে ৫০ শতাংশ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হবে।

২। মোট সম্পদের ২৫ শতাংশের বেশি কোনও কোম্পানিতে, ডিবেঞ্চার বা অন্যান্য সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা যাবে না।

৩। মোট সম্পদের ২০ শতাংশের বেশি শেয়ার, ডিবেঞ্চার বা একক সংস্থা বা গোষ্ঠী, কিংবা সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা যাবে না।

৪। এক সাথে প্রাক- আইপিওলোতে মোট সম্পদের মোট ১৫% শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করা যাবে না।

৫। কোনও কোম্পানির মোট পরিশোধিত মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করা যাবে না।

৬। কোন নির্দিষ্ট কোম্পানিতে মোট সম্পদের ১০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করা যাবে না।

 

বিনিয়োগ নিষেধাজ্ঞা:

১। একই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির অধীনে অন্য কোনও প্রকল্পে বিনিয়োগ বা ঋণ দেয়া যাবে না।

২। ট্রাস্ট সম্পত্তির বাইরে কোনও সম্পদে বিনিয়োগ করা যাবে না, যার মধ্যে সীমাহীন কোন দায়বদ্ধতা জড়িত থাকে।

৩। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের পক্ষে তহবিল বা সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থা কোনো উদ্দেশ্যে কোন মেয়াদী ঋণ প্রদান বা গ্যারান্টি প্রদান করবে না; যা বিধির লঙ্ঘন।

৪। মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকে এক স্কিম থেকে অন্য স্কিমে স্থান্তান্তর করতে পারে যদি-

তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের স্থান্তান্তর স্পট মার্কেটের মাধ্যমে বর্তমান মূল্যে করা হয়। স্থান্তান্তরকৃত সিকিউরিটিজের সাথে অন্য স্ক্রিমের বিনিয়োগ উদ্দেশ্য একই থাকে।

৫। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ উদ্দেশ্য কোন ঋণ গ্রহণ করবে না।

৬। ওই মিউচ্যুয়াল ফান্ড দিয়ে নিজস্ব ইউনিট কিনতে পারবে না।

 

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মূল্যায়ন পদ্ধতি:

১। প্রত্যেক মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রত্যেকটি স্কিমের জন্য, কমিশনের পূর্ব অনুমোদনক্রমে, বিনিয়োগের মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করবে।

২। বাজারে তালিকাভুক্ত নয় এরূপ বিনিয়োগের মূল্য সম্পদ ব্যবস্থাপক ও ট্রাস্টি ত্রিমাসিক ভিত্তিতে পুনরিক্ষিত করবে এবং নিরীক্ষকগণ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ সম্পর্কে মন্তব্য করবেন।

 

অব্যবসাকৃত বিনিয়োগের মুল্যায়ন:

যে ক্ষেত্রে বিনিয়োগ তালিকাভুক্ত কিন্তু মুল্যয়নের তারিখের আগে এ মাসের মধ্যে এর ব্যবসা করা হয় নাই সে ক্ষেত্রে, সম্পদ ব্যবস্থাপক এর একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন মুল্যায়ন করবে; যা হতে ইহার প্রকৃত আদায়যোগ্য মূল্য প্রতিফলিত হয়; উক্ত মূল্যায়নের পদ্ধতি ট্রাস্টি কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে এবং নিরীক্ষকগণ কর্তৃক মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ সম্পর্কে মন্তব্য করতে হবে।

 

শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য নির্ণয় পদ্ধতি:

প্রত্যেক মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রত্যেকটি স্কিমের ইউনিট প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (পৃথকভাবে ক্রয় মূল্য ও চলতি বাজার মূল্য এর ভিত্তিতে) নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে নির্ণয় করবে। যথা:-

মোট নিট সম্পদ মূল্য (NAV) = ফান্ডের মোট সম্পদের পরিমান – ফান্ডের মোট দায়ের পরিমান

মোট সম্পদের পরিমান বলিতে নিচে বর্ণিত সম্পদকে বুঝাবে।

(ক)  হেফাজতে রক্ষিত ও বন্ধককৃত সকল সিকিউরিটিজের মূল্য, হাতে ও ব্যাংকে রক্ষিত নগদ টাকা, পাওনাযোগ্য সিকিউরিটিজের মূল্য, পাওনাযোগ্য বিনিয়োগের বিক্রয় মূল্য, আয়কর বাদে আদায়যোগ্য লভ্যাংশ, আয়কর বাদে আদায়যোগ্য সুদ, অবসায়ন খরচ বাদে ইস্যু খরচ, অবসায়ন খরচ বাদে মুদ্রণ ও স্টেশনারি খরচ।

(খ) ফান্ডের মোট দায়ের পরিমান বলিতে নিচে বর্ণিত দায়কে বুঝাইবে –-

প্রদেয়যোগ্য সকল সিকিউরিটিজের মূল্য, প্রদেয়যোগ্য বিনিয়োগের ক্রয় মূল্য, ব্রোকারেজ ও হেফাজতকারীর চার্জ, সকল ধরণের মুদ্রণ, পাবলিকেশন ও স্টেশনারি খরচ, বকেয়া বিলম্বিত খরচ (ট্রাস্টি ফি, বার্ষিক ফি, অডিট ফি, গ্যারান্টি কমিশন)।

(২) মিউচুয়াল ফান্ডের সকল স্কিম প্রতি সপ্তাহে এর নিট সম্পদ মূল্য নির্ণয় করবে।

(৩) প্রত্যেকটি স্কিমের নির্ণয়কৃত নিট সম্পদ মূল্য (ক্রয় মূল্য ও চলতি বাজার মূল্যের ভিত্তিতে) প্রত্যেক সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সিকিউরিটিজ লেনদেন শুরু হওয়ার আগে কমিশন ও সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জকে জানাতে হবে। একই সাথে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির কার্যালয়ে নোটিশ বোর্ড ও ওয়েব-সাইটে এটা প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি প্রেস রিলিজ আকারে ওই তথ্য পুঁজিবাজার সম্পর্কীত সংবাদ পরিবেশনকারী অন্তত একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে।

 

বে-মেয়াদি স্কিমের ইউনিটের মূল্য নিরুপণ:

কোন স্কিমের ইউনিটের বিক্রয় মূল্য এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড কর্তৃক যে কোন সময় ওই ইউনিটের পুন:ক্রয় মূল্য উক্ত স্কিম নিরুপন করতে পারবে।

(২) মিউচ্যুয়াল ফান্ডের স্কিমের ইউনিটের বিক্রয় মূল্য পুন:ক্রয় মূল্য স্টক এক্সচেঞ্জের দৈনিক লেনদেন খবর, ইউনিটের প্রত্যেকটি বিক্রয় কেন্দ্রে এবং সম্পদ ব্যবস্থাপকের ওয়েব-সাইটে ও একই সাথে প্রেস রিলিজ আকারে উক্ত তথ্য অন্তত একটি পুঁজিবাজার সম্পর্কীত সংবাদ পরিবেশনকারী জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করবে। যাতে সংশ্লিষ্ট সকল বিনিয়োগকারী এটি জানতে পারেন।

(৩) যে কোন স্কিমের ইউনিটের বিক্রয় মূল্য ও পুন:ক্রয় মূল্য নির্ধারণকালে মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইহা নিশ্চিত করবে যেন এই ২টি মূল্যের মধ্যকার ব্যবধান বিক্রয় মূল্যের শতকরা ৫ ভাগের বেশি না হয়।

(৪) সম্পদ ব্যবস্থাপক কোন স্কিমের ইউনিট প্রতি পুন:ক্রয় মূল্য নির্ধারণে ইউনিট প্রতি নিট সম্পদ মূল্যের সর্ব্বেচ্চ ১৫% কম বা বেশি করিতে পারবে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের আগে আপনি যা খুঁজবেন:

 

ক) কত শতাংশ ইক্যুইটি (equity) বা শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে?

খ) কত শতাংশ ঋণপত্রে (debt) বিনিয়োগ রয়েছে?

গ) কত শতাংশ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ রয়েছে?

ঘ) কত শতাংশ অন্যান্য মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ রয়েছে? (এক্ষেত্রে ওই মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর পোর্টফোলিও চেক করুন এবং NAV দেখুন)

২. আপনি যদি পোর্টফোলিও চেক করে সন্তুষ্ট হোন তাহলে ইউনিটটির NAV দেখুন (প্রতিটি ইউনিটের weekly NAV, DSE & CSE এর ওয়েবসাইটে প্রতি রোববার প্রকাশ করা হয়)।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটের NAV ২ ভাবে মূল্যায়ন করা হয়।

ক) ক্রয়মূল্য ভিত্তিক (cost price basis): যে দামে যে দিনে ফান্ডটি বাজার থেকে শেয়ার ক্রয় করেছে তার মোট মূল্য বুঝায়।

খ) বাজার মূল্য ভিত্তিক (market price basis): আগে ক্রয়কৃত শেয়ারের বর্তমান বাজার মূল্যের মোট মূল্য বুঝায়।

 

লক্ষ্যণীয় বিষয়:

১. ক) NAV বাজার মূল্য যদি ক্রয় মূল্যের চেয়ে অধিক হয়, বুঝবো ফান্ডটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লাভে রয়েছে।

খ) NAV বাজার মূল্য যদি ক্রয় মূল্যের চেয়ে কম হয়, বুঝবো ফান্ডটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লোকসানে রয়েছে।

২. সূচক বৃদ্ধির সাথে ফান্ডের ধারণকৃত শেয়ারের দর বাড়লে (যা আপনি পোর্টফোলিও দেখে জেনেছেন) ফান্ডটির দর বাড়বে এর বিপরীত হলে কমবে। এর ব্যত্যয় হলে বুঝবেন দর বাড়া-কমাটা সাময়িক।

৩. মিউচুয়াল ফান্ড কোনো শেয়ার নয়, তাই ইউনিটের দর ঘন ঘন উঠা-নামা বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সর্তক থাকা উচিত।

৪. বিশ্বে প্রতিটি পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ক্রয় -বিক্রয় হয় NAV এর ভিত্তিতে অর্থাৎ ফান্ডগুলোর দর সব সময় তার NAV এর কাছাকাছি থাকবে এর ব্যত্যয় হলে

ক) কম হলে এগুলো বেশি লোকসানে আছে।

খ) বেশি হলে বিনিয়োগকারীরা না জেনে উচ্চ মূল্যে এগুলো ক্রয় করছে।

 

মিউচ্যুয়াল ফান্ডে কেন বিনিয়োগ করবেন:

১। পেশাদারি ব্যবস্থাপনা:

একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য এবং ভবিষ্যত সম্পর্কে বিশ্লেষণকারি হিসেবে একন্তভাবে নিয়োজিত একটি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং দক্ষ পেশাদারের সহায়তা লাভ করতে পারা যায়। যারা সাফল্যের জন্য উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার সাথে বিনিয়োগ করবে।

২। বৈচিত্র্যকরণ:

মিউচ্যুয়াল ফান্ড লগ্নি করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে। কদাচিৎ একই সাথে এবং একই অনুপাতে শেয়ার সমূহের দাম পড়ে যায়, মিউচুয়্যাল ফান্ডের বৈচিত্র্য করণের জন্য এই ঝুঁকির সম্ভাবনা প্রায় থাকেই না। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এই কাজ খুব কম খরচে হয়ে যায়; যেটা নিজে করলে অনেক বেশি পরিমাণ টাকা লাগত।

৩। সুবিধাজনক ব্যবস্থা:

মিউচ্যুয়াল ফান্ডে লগ্নি করলে বৈষয়িক লেখা পড়ার কাজ অনেকটাই কমে যাবে। এছাড়াও আরও ব্যবস্থা যেমন খারাপ বিলি ব্যবস্থা, দেরিতে দেনা অর্থ দেওয়া এবং দালাল বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির কাজ দেখভাল করা। মিউচ্যুয়াল ফান্ড সময় বাচায় এবং লগ্নি করা সহজ এবং সুবিধাজনক।

৪। লাভ করার ক্ষমতা:

মধ্যম এবং দীর্ঘকালীন মিউচ্যুয়াল ফান্ড উচ্চতর মুনাফা দেয়, কেননা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ঝুলিতে বৈচিত্র্যকরণ সাথে সাথে বাছাই করা সিকিউরিটিজ থাকে।

৫। নিম্ন মূল্য:

মূলধনী বাজারে নিজে প্রত্যক্ষভাবে বিনিয়োগ করার চেয়ে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা খুবই কম ব্যয় সাপেক্ষ। কেননা বিনিয়োগকারীর ক্যাষ্টোডিয়াল বা অন্যান্য অনেক খরচগুলি কমে যায়।

৬। তরলতা (সহজ লেনদেন):

নেট এ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) মূল্যেই মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে ওপেন-এন্ড এর টাকা সহজেই পাওয়া যাবে। ক্লোজ এন্ড পরিকল্পনার ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জে তৎকালীন মূল্যের ভিত্তিতে ইউনিট বেচে যায় অথবা এনএভি মূল্যে মাঝে মাঝে কিছু কিছু ক্লোজ এন্ড এবং ইন্টারভেল পরিকল্পনার প্রস্তাব আসে যা পুন:ক্রয় করতে পারা যায়।

৭। স্বচ্ছেতা:

নির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যে অনুপাতে সম্পত্তির শ্রেণিগতভাবে এবং লগ্নি কৌশল ও দৃষ্টিভঙ্গিতে যে লাভ হচ্ছে সেটাসহ লগ্নি মূল্যে সম্বন্ধে নিয়মিত ব্যবধানে তথ্য পাওয়া যাবে।

৮। স্থিতিস্থাপকতা: Systematic investment planners (SIP) Systematic withdrawal plan (SWP) এবং Dividend re-investment plan সুবিধা ও প্রয়োজন মত নির্দিষ্ট নিয়মে বিনিয়োগ করতে পারা যায় অথবা টাকা তুলতে পারা যায়।

৯।পরিকল্পনার পছন্দীকরণ:

সমস্ত জীবন ধরে বিভিন্ন প্রয়োজন অনুসারে মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিভিন্ন ধরণের পরিকল্পনার প্রস্তাব দেয়।

১০। সুনিয়ন্ত্রিত:

সমস্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিএসইসির কছে নথিভুক্ত এবং বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত কঠোর নিয়ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

বিনিয়োগের ব্যাপারে শেয়ার, ডিবেঞ্চার অথবা জমা সবকিছুতেই ঝুঁকি আছে, অর্থনীতি প্রতিকূল হলে শেয়ারের দাম পড়ে যেতে পারে। বিনিয়োগ যত দীর্ঘ হবে ঝুঁকি তত কম হবে। সুদ জনিত পাওনা, জিবেঞ্চার বন্ডস এবং জমার উপর সুদ প্রতিষ্ঠান ঠিক সময় মত দিতে পারবে না। মুদ্রা স্ফীতির জন্য বিনিয়োগের উপর সুদের হার কমে যেতে পারে; এর ফলে ক্রয় ক্ষমতা কমে যায়। ঝুঁকিকে যখন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।

দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়। মিউচ্যুয়াল ফান্ড তাদের বিনিয়োগ বৈচিত্র্য এনে পেশাগত দক্ষতার সাহায্যে এই ঝুঁকির পরিমাণ অনেক কমিয়ে দেয়, দক্ষ এবং অভিজ্ঞ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপকর বা নির্ভর যোগ্য সিকিউরিটি বাছাই করে এবং ক্রয় বিক্রয়ের যথার্থ সময় নির্ণয় করে একটি বৈচিত্র্য পূর্ণ পোর্ট ফোলিও তৈরি করতে সাহায্য করে । এর ফলে ঝুঁকির সম্ভাবনা হ্র্রাস পায় এবং সর্বোচ্চ মুনাফা পাওয়া যায়।

লেখক:

মনজুরুল আলম- প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা

এনসিসি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেড